জৈব পারঅক্সাইড

testwiki থেকে
imported>AishikBot কর্তৃক ০৬:১১, ১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (বানান সংশোধন (সংশোধনের অনুরোধ সাপেক্ষে))
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
জৈব পারঅক্সাইডের সাধারণ গঠন

জৈব পারঅক্সাইড এক প্রকার জৈব যৌগ, যার মধ্যে পারঅক্সাইড কার্যকরী মূলক (ROOR') বিদ্যমান। যদি R' হাইড্রোজেন মূলক হয়, তাহলে ঐসকল যৌগকে জৈব হাইড্রোপারঅক্সাইড অভিহিত করা হয়। পেরেস্টার-গুলোর সাধারণ গঠন RC(O)OOR। O−O বন্ধন সহজেই ভেঙে যায়, যার ফলে মুক্ত যৌগমূলক উৎপন্ন হয়। এতে RO. তৈরি হয়, যেখানে ডট দ্বারা অযুগ্ম ইলেকট্রন বুঝানো হয়। এরূপে পলিমারকরণ বিক্রিয়া সূচনা করতে (অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যৌগমূলক উৎপাদন করতে) জৈব পার অক্সাইড উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, কাচতন্তুজাত প্লাস্টিক উৎপাদনে ইপোক্সি রেজিন কার্যক্ষম করে তুলতে এমইকেপি (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারঅক্সাইড) ও বেনজোয়িল পারঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। তবে জৈব পার অক্সাইড আনস্যাচুরেটেড রাসায়নিক বন্ধন বিদ্যমান এরূপ বস্তুতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে, কিংবা দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ সৃষ্টিকারী পলিমারকরণ বিক্রিয়া সংঘটন করতে পারে। অজৈব ও জৈব উভয় ধরনের পারঅক্সাইড বিরঞ্জক হিসেবে ভূমিকা রাখে। []

বৈশিষ্ট্য

জৈব পারঅক্সাইডে O-O বন্ধনের দৈর্ঘ্য ১.৪৫ আর্মস্ট্রং। আবার R-O-O (R বলতে হাইড্রোজেন বা কার্বনকে বুঝানো হচ্ছে) কোণের পরিমাপ ১১০ ডিগ্রি (পানির অণুর বন্ধন কোণের কাছাকাছি)। আবার, C-O-O-R দ্বিস্তলকীয় বন্ধন কোণের পরিমাপ ১২০ ডিগ্রি। O-O বন্ধন তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং এর বন্ধন ভাঙতে ৪৫-৫০ কিলোক্যালরি/মোল (১৯০-২১০ কিলোজুল/মোল) শক্তি ব্যয়িত হয়। এই মান কার্বন-কার্বন, কার্বন-হাইড্রোজেন এবং কার্বন-অক্সিজেন বন্ধন ভাঙার শক্তির অর্ধেক।[]

জৈব পারঅক্সাইডের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ-

(১)হাইড্রোপারঅক্সাইড - যে সকল জৈব পারঅক্সাইডে ROOH মূলক রয়েছে (এক্ষেত্রে R মানে অ্যালকাইল)

(২)পারঅক্সিএসিড এবং এস্টার- যে সকল জৈব যৌগে RC(O)OOH এবং RC(O)OOR'(R,R' =অ্যালকাইল ও অ্যারাইল)

(৩)ডাইঅ্যাসাইল পারঅক্সাইড (যে সকল যৌগে RC(O)OOC(O)R মূলক বিদ্যমান)

(৪)ডাইঅ্যালকাইল পারঅক্সাইড (এসব যৌগেও ROOR মূলক বিদ্যমান)

প্রস্তুতি

ডাইঅ্যালকাইল সালফেট ক্ষারীয় হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে।[] এ পদ্ধতিতে অ্যালকাইল সালফেট অ্যালকাইল গ্রুপ ও সালফেট আয়ন উদ্বৃত্ত গ্রুপ (লিভিং গ্রুপ) গঠন করে। নিচে বিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি দেখানো হলো:

RA2SOA4+HA2OA2ROOR+HA2SOA4

এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে চাক্রিক পারঅক্সাইড উৎপন্ন করাও সম্ভব। []অ্যালকিন এর সাথে অক্সিজেনের ২,২ চাক্রিক সহযোগ বিক্রিয়া ঘটিয়ে চার সদস্যবিশিষ্ট ডাইঅক্সিটেন উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

বিক্রিয়া

লিথিয়াম অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রাইড এর সাথে জৈব পারঅক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে অ্যালকোহল উৎপাদন করা যায়। নিম্নে বিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি দেখানো হলো:

4 ROOH + LiAlH4 → LiAlO2 + 2 H2O + 4 ROH

ফসফাইট এস্টার ও প্রান্তীয় ফসফিন সহযোগেও এ বিক্রিয়া ঘটানো সম্ভব হয়:

ROOH + PR3 → OPR3 + ROH

কিছু কিছু পারঅক্সাইড ঔষধ হিসেবেও কাজে লাগে। যেমন - আর্তেমিসিন এবং এর উপজাত আর্তেসুয়েনেট Plasmodium falciparum সৃষ্ট ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। []Schistosoma haematobium এর সংক্রমণের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করতেও আর্তেসুনেট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। []

পারঅক্সাইডের গুণগত ও পরিমাণগত নিরূপণের জন্য বেশ কিছু বিশ্লেষণী পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। [] আয়োডিন-স্টার্চ বিক্রিয়া এর অন্যতম। এক্ষেত্রে পারঅক্সাইড, হাইড্রোপারঅক্সাইড এবং পারএসিড সংযোজিত পটাশিয়াম আয়োডাইডকে আয়োডিনে জারিত করে। জারিত আয়োডিন স্টার্চের সাথে বিক্রিয়া করে গাঢ় নীল বর্ণ সৃষ্টি করে। কিন্তু এর ফলে ভিন্ন ধরনের পারঅক্সাইড যৌগ আলাদা করা যায় না।

রাসায়নিক সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় তাপীয় বিয়োজন ধর্মের কারণে জৈব পারঅক্সাইড অত্যন্ত উপযোগী।

নিরাপত্তা

জৈব পারঅক্সাইড অত্যন্ত শক্তিশালী জারক; এগুলো দেহত্বক, তুলা এবং কাঠমণ্ডের সাথে সহজেই বিক্রিয়া করতে পারে।[] তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র

টেমপ্লেট:সূত্র তালিকা